মুসলমানদের কিছু আবিস্কার, প্রতিদিনই আমরা যা ব্যবহার করি | islam.bdview24.com : The Religion of Islam

মুসলমানদের কিছু আবিস্কার, প্রতিদিনই আমরা যা ব্যবহার করি


বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে টুথব্রাশ, এমন অনেক কিছুই আছে যা মুসলিমরা আবিষ্কার করেছে এবং প্রতিদিনই আমরা এই জিনিসগুলি ব্যবহার করছি। 

অথচ আমরা জানি না যে এই জিনিসগুলির আবিষ্কারক একজন মুসলি। 

এখানে মুসলিমদের ‘১০০১ আবিষ্কার’ এর ওপর লেখা বই থেকে এমন ১০ টি আবিষ্কার তুলে ধরা হলো যা আমরা প্রতিদিনই ব্যবহার করে থাকি।

ঘড়ি  : 

তুরস্কের দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত ডিয়ারবাকির শহরের আল যাযারি নামক একজন প্রতিভাবান ব্যাক্তি বিশ্বের সর্বপ্রথম ঘড়ির আবিষ্কার করেন। 

তিনি ছিলেন অত্যন্ত জ্ঞানী এবং একজন দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার। ১২০৬ সালের মধ্যে তিনি বিভিন্ন আকার এবং আকৃতির ঘড়ি বানিয়ে ফেলেন। 

এখন যেমন আমাদের জীবনকে সাজাতে সময়জ্ঞান থাকা প্রয়োজন, সেসময়েও মানুষের এই সময়জ্ঞান থাকার প্রয়োজন ছিল। 

আল যাযারি অবশ্য তার ঘড়ি বানানোর জন্যে মুসলিম উম্মাহর সময়জ্ঞানকে কাজে লাগিয়েছেন । 

তখনকার মুসলিমরা সময়ের মূল্য বুঝতো এবং জানতো যে ভালো কাজ করাতে এটি ভালো কোন কাজে ব্যবহার করতে হয়। 

তারা জানতো দিনের নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ পড়ার কথা এভং মসজিদে যথাসময়ে আযান দেওয়র কথা।

ক্যামেরা  : 

ইবনে আল হাইথাম তার আবিষ্কার করা ক্যামেরা দিয়ে পুরো আলকবিজ্ঞানের ধারণা বদলে দেন। 

তখনকার সময়ে সকলে এটা বিশ্বাস করতো যে আমাদের চোখ থেকে একটি অদৃশ্য আলোক রশ্মির কারণেই মানুষ দেখতে পেত। 

তবে হাইথাম এই ধারণা ভুল প্রমাণিত করে বলেন, চোখ থেকে লক্ষ্যবস্তুর দিকে আলোক রশ্মি প্রতিফলিত হলেই আমরা চোখে দেখতে পাই। 

এই ক্যামেরা আবিস্কারে তিনি এই ধারণাটি কাজে লাগিয়েছেন। তিনি একটি অন্ধকার রুমে একটি ছোট ছিদ্রের দ্বারা একটি সাদা কাগজে আলো দিয়ে এই ধারণাটিকে প্রমাণিত করেছিলেন। 

এই ছিদ্রের দ্বারা আলো অন্ধকার রুমের মধ্যে প্রবেশ করে রুমের অন্যপ্রান্তে রাখা সাদা কাগজে একটি উল্টো চিত্র দেখা যায়। এটিকে তিনি ‘কামরা’ নাম দেন। এটিই ছিল বিশ্বের সর্বপ্রথম ক্যামেরা অবস্কুরা।

পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা : 

ইসলামে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, হোক সেটা শারীরিক অথবা আধ্যাত্মিক। দশম শতাব্দীর ইসলামিক দুনিয়ায় তখন এমন বাথরুম এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হত যা বর্তমানের বাথরুম এবং পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে টেক্কা দিতে সক্ষম। 

১৩ শতাব্দীতে আল-যাযারি নামের এক লেখক একটি অযুর মেশিন আবিষ্কার করেন যা দিয়ে যেকোনো যায়গায় অযু করা সম্ভব। এটি যেকোনো অতিথির সামনে নিয়ে গেলে তারা এটির একটি বাটনে চাপ দিতেন এবং এই পাত্র থেকে আটটি ধারায় অযু করার জন্যে যথেষ্ট পানি পড়তো। 

এই পদ্ধতির ফলে পানিও সাশ্রয় হত। মুসলিমরা শুধুমাত্র পানি দিয়ে নিজেদেরকে ধোয়ার চাইতে নিজেদেরকে একেবারে পরিস্কার রাখতে পছন্দ করতো। 

এই জন্যে তারা তেল এবং ‘আল কালি’ নামক একটি লবন জাতীয় পদার্থ ব্যবহার করে সাবান বানাতো। 

আল কিনডি সুগন্ধির ওপর একটি বই লেখেন যার নাম ছিল ‘বুক অফ দ্য কেমিস্ট্রি অফ পারফিউম অ্যান্ড ডিস্টিলেশন’। এই বইয়ে ১০০টিরও বেশি সুগন্ধি প্রস্তুত করার জন্যে প্রণালী লেখা ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় : 

মুসলিমরা আগে থেকেই জ্ঞান আরোহণ করার জন্যে আগ্রহী। কুরআনে তাদেরকে জ্ঞান অর্জন করতে বলা আছে। 

এই জন্যেই ফাতেমা আল ফিহরি নামক এক ধার্মিক নারী তার উম্মাহর জন্যে একটি শিক্ষা কেন্দ্র খুলতে চেয়েছিলেন যেখানে সকলে একসাথে নতুন কিছু শিখতে পারবে। 

অন্যসব বড় বড় মসজিদের মত এই শিক্ষা কেন্দ্রটিও আলোচনা এবং ধার্মিকতা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যে একটি জায়গায় পরিণত হয়। ধীরে ধীরে সকল বিষয়ের ওপর এখানে শিক্ষা দেওয়া হয় এবং ইতিহাসের পাতায় এটি সর্বপ্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জায়গা করে নেয়। 

জ্যোতির্বিদ্যা ছাড়াও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কুরআন ও ধর্মতত্ত্ব, আইন, বাকশক্তি, গদ্য ও কবিতা রচনা, পদার্থবিজ্ঞান, গণিত, ভূগোল ও ঔষধ - এই বিষয়গুলো নিয়ে পড়ানো হত। সেখানে ব্যাকারণ, মুসলিম ইতিহাস এবং পাটীগণিতের মত বিষয়ও ছিল। 

এতো ধরণের বিষয় এবং শিক্ষার মান খুবই ভালো হওয়ায় বিশ্বের সকল প্রান্ত থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষার্থীরা আসে। প্রায় ১২০০ বছর পর এটি এখনও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রদান করে আসছে।

উড়ন্ত মেশিন : 

আব্বাস ইবনে ফিরনাসই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি এমন একটি যন্ত্র আবিষ্কার করতে পেরেছিলেন যা কিনা সত্যিকার অর্থে উড়তে পারে। 

নবম শতাব্দীতে তিনি একটি পাখির মত দেখতে জামা বানিয়েছিলেন। এই জামাটির দুটো ডানাও ছিল যেটার সাহায্যে একজন মানুষ আকাশে উড়তে সক্ষম হত। 

স্পেনে পরীক্ষামূলকভাবে এটি ওড়ানো হলে এটি বেশকিছুক্ষণ আকাশে উড়লেও এটি নিচে পড়ে যায়। এই ঘটনায় আব্বাসের কোমর ভেঙ্গে যায়।

অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম : 
আমরা যদি দশম শতাব্দীতে ফিরে যাই, তাহলে আমরা হয়তো তখনকার সময়ের একজন চিকিৎসকের কথা মনে হবে। 

আবুল কাশিম খালাফ ইবনে আল আব্বাদ আল যাহরাওয়ি নামক সে চিকিৎসক পশ্চিমা বিশ্বে আবুলক্যাসিস নামেও বেশ পরিচিত ছিলেন। 

তিনি আল তাদ্রিফ বইটি লেখেন যেখানে তার কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে সকল চিকিৎসা শাস্ত্রের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি সেখান ‘অন সার্জারি’ নামক একটি পদ্ধতির কথাও উল্লেখ করেন। 

এই পদ্ধতিতে অন্তত দুইশত আলাদা অস্ত্রপাচারের সরঞ্জামের কথা লেখা ছিল। এটিই ছিল চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রথম অস্ত্রপাচারের সরঞ্জামের উল্লেখ, এবং এই বইয়ে এগুলোর ব্যবহারবিধিও বলে দেওয়া হয়েছিল। 

এই সরঞ্জামগুলোর নকশা এতোটাই নিখুঁত ছিল যে বর্তমান বিশ্বেও এগুলো খুবই কম পরিবর্তিত হয়েছে।

মানচিত্র : 
প্রায় ৩৫০০ বছর ধরে মানচিত্র মানুষকে পথ দেখাতে সাহায্য করেছে। আগে কাদামাটির ছোট ছোট প্লেটের মত বস্তুতে তা আঁকা থাকতো। 

মানচিত্র আঁকাতে কাগজের ব্যবহার এটিকে অন্যন্য এক মাত্রা এনে দেয়। আধুনিক প্রযুক্তিতে স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য থেকে কম্পিউটারের সাহায্য নিখুঁত মানচিত্র তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। 

তবে ইতিহাসের শুরুতে এমন প্রযুক্তি না। তখনকার সময়ে পথিকদের নির্দেশনা অনুযায়ী মানচিত্র বানানো হত। সেসময় মুসলিমদের ঘরের বাইরে পা দিয়ে বর্হিবিশ্বকে ঘুরে দেখার ইচ্ছা বাড়তে থাকে। এই জন্যে ধর্মীয় এবং বাণিজ্যিক কাজে তারা ঘর থেকে বের হয়ে পৃথিবীটিকে ঘুরে দেখতে শুরু করে। 

তারা যখন যাত্রা শেষে বাড়ি ফিরতেন, তাদের অভিজ্ঞতার কথা বাসার সবাইকে জানাতেন। প্রথমে মৌখিকভাবে মানচিত্রের ব্যবহার করা হলেও এরপর ধীরে ধীরে কাদামাটি এবং কাগজের ব্যবহারও শুরু হয়।

বীজগণিত : 

বীজগণিত শব্দটির উৎপত্তি একজন বিখ্যাত পারস্য গণিতবিদের গ্রন্থ ‘কিতাব আল যাবর ওয়াল মুগাবালা’ থেকে। 

বাংলায় এই গ্রন্থটির নাম হচ্ছে ‘যুক্তি এবং ভারসাম্যের গ্রন্থ’। এই গ্রন্থটিতে আল খোয়ারিজমি বীজগণিতের প্রাথমিক অবস্থা দেখিয়ে দেন। 

নতুন সেই ধারণার গুরুত্বটা বোঝা অত্যন্ত জরুরী কারণ এটি তখনকার সময়ে অংকের ওপর প্রচলিত গ্রিক ধারণা ব্যবহার করা হত। এই ধারণাগুলো জ্যামিতির ওপর ভিত্তি করে বানানো হয়েছিল।
Share on Google Plus

About বার্তাকক্ষ

প্রকাশিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।
    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment